আজকাল প্রায়ই দেখা যায় ডাক্তাররা বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত হয়, মানুষের খুব রাগ ডাক্তারদের উপর, এদের দ্বিমুখী আচরণ সত্যিই অবাক করার মত। ছোটবেলায় বাবা মারা শিখায় হয় ডাক্তার নয়ত ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য। এটা তাদের মাথায় প্রোগ্রাম করে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে বলে ডাক্তার হব কিন্তু আসলে তারা জানেনা যে হয়ে কি লাভ, বলে বাবা মা বলেছে তাই।

আবার এদের মধ্যে অনেক বাবা মাই পান থেকে চুন খসলে ডাক্তারদের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করেন। ভুলে যান যে একদিন তাদের ছেলেমেয়েরা ও এই জায়গায় থাকতে পারে।

আমি একটা কথা বলি ধরুন আপনি পার্লারে গেছেন ফেসিয়াল করাতে, ভাল ফেসিয়াল ১০০০ টাকার নিচে হয়না, আপনি ফিজিওথেরাপি নিতে গেছেন কোন হাসপাতালে সেখানেও প্রায় ১০০০ টাকা বিল আসবে, কোন ভাল রেস্টুরেন্টে খেতে গেছেন ১০০০ টাকা বিল বা তার বেশি হবেই, উকিলের কাছে যান সেখানে ফি আরো বেশি থানায় মামলা দিতে যান সেখানেও আপনার ১০০০ টাকা কমপক্ষে লাগবে

তাহলে আমরা যারা ডাক্তার, ১৫/২০ বছর সব ত্যাগ করে একটা ডিগ্রী নিলাম সেই বিশেষজ্ঞদের ১০০০/১৫০০ টাকা দিতে গায়ে বাধে কেন।পাশের দেশ কলকাতা তে গেলেও দাদারা খাতির করবে ঠিকই কিন্তু কোন ছাড় দিবে না।তাদেরকে মিষ্টি হাসি দিয়ে টাকাগুলো ঠিকই দিয়ে আসবেন।অনেক অঘা মঘা ডাক্তারই ভারতের নানা শহর থেকে আসে যাদের কেয়ালিটি খুব খারাপ।

তবুও প্রচারণার জোরে তারা টাকা কামিয়ে যায়।তাদের টাকা দিতে গায়ে বাধেনা। বাধে শুধু নিজের দেশের ডাক্তারদের ভিজিট দিতে। দিল্লী, ব্যাঙ্গালুরু, চেন্নাইতে একজন ডাক্তারের প্রাইভেট চেম্বারের ফি ৪/৫ হাজার রুপি। সেখানে ঢাকায় ১০০০ টাকা দিতে কত বাহানা। ডাক্তারদের কত গালাগাল। আপনি আজ একজনের হক মেরে লাভ করেছি ভেবে খুব হাসলেন।

তাহলে জেনে রাখেন কাল আপনিও কোন না কোনভাবে ঠকবেন কারও কাছে।আর কেউ না করলেও প্রকৃতি করবে।কারন প্রকৃতি সব হিসাব রাখে।ডাক্তারী সৎ একটা পেশা। এখানে ঘুষ খাওয়া হয়না অনেক ডাক্তার ফ্রী চিকিৎসা করে।চকবাজারের আগুন লাগার দুর্ঘটনায় যেভাবে ডাক্তাররা চিকিৎসা দিয়েছে তা সত্যিই তুলনাহীন। তবুও এগুলো কেও মনে রাখে না। মনে করে মাগনা সেবা দিবে ডাক্তার এটাই স্বাভাবিক এত কম বুদ্ধির জাতি নিয়ে দেশের উন্নয়ন সত্যিই কঠিন।

তাহলে সব বাবা মার উচিত ছেলেমেয়েদের ডাক্তার না বানানো। তাতে করে লাভ আপনাদেরই।আপনাদের ছেলেমেয়েরা মার খেয়ে,অপঘাতে মারা যাবেনা।বেচে থাকবে সম্মানের সাথে সারাজীবন।

লেখক : ডা. ফাতেমা জোহরা
সুলেখক। পেশায় মনোচিকিৎসক।

Leave a comment